Life and Death, Reflections, wisdom

বিকেলের বকবকানি

১০.০৯.২৬ আজ বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ এই বড় বাড়িটায় একা একা বসে আছি। একসময় বাড়িটা কত মানুষে গমগম করত—দাদু, ঠাকুমা, দুই জেঠু, আর মা। এখন আমরা সাকুল্যে তিনজন—আমি, আমার বউ আর মেয়ে। আমাদের ল্যাব্রাডর লাকিও তো কয়েক দিন আগে চলে গেল; তাই আক্ষরিক অর্থেই এখন আর কেউ নেই। বউ সকাল সাড়ে আটটায় অফিসে বেরোয়, ফিরতে ফিরতে সেই সন্ধে সাড়ে ছ’টা। মেয়েও সোম থেকে বুধ বহরমপুরে থাকে—সোমবার ভোরে বেরিয়ে বুধবার রাত ন’টা নাগাদ ফেরে। এই লম্বা সময়টায় গোটা বাড়িটা একদম খাঁ খাঁ করে। মা বেঁচে থাকতে বারবার পাশের ঘর থেকে এসে খোঁজ নিত, রাজ্যের সাংসারিক গল্প করত। তখন হয়তো সব সময় শুনতে ভালো লাগত না, কখনো সখনো বিরক্তিও দেখিয়েছি। আজ সেই কথাগুলো ভেবে বড্ড খারাপ লাগে। করোনার সময়ে সেরিব্রাল স্ট্রোকে মা চলে গেল, তেমন কষ্ট হয়তো পায়নি। কিন্তু সকালবেলা ভাত খেতে বসলে মায়ের কথা খুব মনে পড়ে। উল্টোদিকের চেয়ারে বসে সমানে কথা বলে যেত, আর আমি হয়তো দায়সারা হুঁ-হ্যাঁ করে যেতাম। আজ সেসবের কিছুই নেই, চারপাশটা কেমন যেন ফাঁকা। মনে হয়, এবার তো আমিও ফ্রন্ট সিটে এসে বসেছি—শুধু সময়ের অপেক্ষা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *