Life and Death, Reflections, Self-Improvement, Travelogue & Experience (ভ্রমণ ও অভিজ্ঞতা), Travels, wisdom

ধানক্ষেত, মেঠো পথ আর একলা বাইক: ক্লান্তি ভোলানো এক চক্কর

কাল কলেজ থেকে ফেরার পথে হঠাৎ খেয়াল হলো, অনেকদিন কোনো অচেনা পথে পা বাড়ানো হয়নি। বাইকটা ঘুরিয়ে নিলাম চেনা কলেজ চত্বরের ঠিক পাশেই পড়ে থাকা এক অদ্ভুত অচেনা রাস্তায়। সেই গলিঘুঁজি পার হয়ে হুট করেই যেন পৌঁছে গেলাম একেবারেই নতুন এক পাড়ায়, যেখানে আগে কখনো আসা হয়নি। সেখান থেকে পথ সোজা গিয়ে আছড়ে পড়ল দিল্লি রোডে। ভাবলাম, গ্রামের দিকে একটু পথ হারিয়ে এলে মন্দ হয় না!

সোজা মগরা পেরিয়ে রেললাইনের তলা দিয়ে ঢুকে পড়লাম একটা ধূলোমাখা পথে। পথটা খুব একটা মসৃণ নয়, তবে একেবারে খারাপও বলা চলে না। যত এগোচ্ছি, চারপাশ ততই নিঝুম। মাঝে মাঝে দু-একটা গ্রাম চোখে পড়ছে—পথের ধারে ধুলো মেখে ছোট ছোট বাচ্চাদের খেলা, দাওয়ায় নিঃশব্দে বসে থাকা কোনো প্রবীণ মানুষ। দুপাশে যতদূর চোখ যায়, সবুজ ধানের ক্ষেত যেন ঢেউ খেলে যাচ্ছে।

পথের এক কোণে চোখে পড়ল চারটে শালিখ—একমনে মাটি খুঁটে কী যেন খাচ্ছে। বাইকের শব্দে সামান্য সরে গেল বটে, কিন্তু ডানার আলস্য ভেঙে উড়ে গেল না। চলার পথে কখনো বিশাল দিঘি, কখনো বা মাথা তুলে দাঁড়ানো তালগাছের সারি মন জুড়িয়ে দিচ্ছিল।

চলতে চলতে একসময় বড় এক জনপদে এসে পৌঁছালাম; ফলক দেখে বুঝলাম জায়গাটার নাম মহানাদ। সেখান থেকে আর একটা পথ ধরে গিয়ে পড়লাম চেনা পোলবায়। তারপর আলীনগর হয়ে সোজা ১৭ নম্বর রুটের সংযোগ। সেখান থেকে চুঁচুড়ার মোড় ধরে আবার দিল্লি রোড হয়ে ঘরে ফেরা।

ঘণ্টা দেড়েকের এই সামান্য চক্করটাই যেন সপ্তাহের সব জমে থাকা ক্লান্তি ধুয়ে মুছে দিল। বাড়ি ফিরে মনে হলো, সুদূরের খোঁজে আমরা কত জায়গায় ঘুরে বেড়াই, অথচ ঘরের এত কাছেই যে এমন অপরূপ সৌন্দর্য নিঃশব্দে অপেক্ষা করছিল, তা তো জানাই ছিল না! মনটা এক লহমায় তরতাজা হয়ে উঠল। এমনভাবে আবার কোনোদিন বেরিয়ে পড়তে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *