Life and Death, Reflections, wisdom

অবশিষ্ট কথপোকথন

আমার লাকি, আমার সন্তান, আমার ল্যাব চলে গেছে। প্রায় এক মাস হতে চলল; সামনের শনিবার এলে এক মাস পূর্ণ হবে। সবথেকে বেশি মিস করি ওকে কলেজ থেকে ফিরে আসার পরে—ফাঁকা বাড়িতে বেশ কিছুক্ষণ ও আর আমি একা থাকতাম। আমি ওর দিকে তাকিয়ে কত কথা বলে যেতাম! ও কি বুঝত, জানি না; অবাক হয়ে মাঝে মাঝে তাকিয়ে থাকত, মাঝে মাঝে লেজ নাড়ত, আবার কখনো পাশে এসে বসত। ভঙ্গিটা যেন ঠিক এরকম ছিল—তুমি কিছু ভেবো না গো, আমি তো আছি, সব ঠিক হয়ে যাবে।

ওর চোখে বড় মায়া ছিল; কেমন এক মায়াময় দৃষ্টিতে তাকাত। বড্ড কথা শুনত! শেষে যখন খুব কষ্ট পাচ্ছিল, শেষ দিনে আর উঠতেই পারছিল না, শুধু শুয়ে ছিল—তখনও একদৃষ্টে চেয়েছিল আমার দিকে। ওই চোখটা আমি কোনো দিন ভুলব না। যেন বলতে চাইছিল, ‘আমার কষ্ট হচ্ছে হোক, তুমি যেন ঠিক থেকো।’ আমি আর ওর যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে কেঁদে ফেলেছিলাম। বলেছিলাম, ‘লাকি, এবার তুমি আমাদের মায়া কাটাও। তুমি বড্ড কষ্ট পাচ্ছ; তুমি চলে যাও, তুমি এবার চলে যাও। কিছুদিন বাদে দেখবে আমিও তোমার কাছে চলে গেছি।’

তার কিছুক্ষণ বাদেই ও একটা তীব্র চিৎকার করে উঠল। আমার হৃদয়টা কেমন কেঁপে উঠল, তারপর সব শান্ত, নিথর হয়ে গেল। উফ, ওই দৃশ্যটা আমি আজও ভুলতে পারি না! অসম্ভব ভালো ছিল লাকি, কত কথা শুনত! সবাই বলত ‘লাকিদের বাড়ি’, আমরাও মজা করে বলতাম, ‘এটা লাকিরই বাড়ি, ও থাকতে দিয়েছে বলেই আমরা এখানে থাকি।’ সেই লাকি আজ নেই, অথচ পুরো বাড়িটাই পড়ে রয়েছে। এই সময়টাতে বুকটা কেমন ফাঁকা হয়ে যায়!

তুই… আমি জানি তুই ঠিক আমার দিকে তাকিয়ে আছিস। রোজ যখন চা খাই, মনে হয় বিস্কুটটা খাবার জন্য তুই হয়তো আজও আমার মুখের দিকে তাকিয়ে আছিস। লাকি, যেখানেই থাকিস, ভালো থাকিস রে!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *