অনেকে আক্ষেপ করে বলে, কীভাবে সময় কাটাবে ভেবে পায় না; হাতে কোনো কাজ নেই, অলস বসে থাকাও অসহ্য। আমার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতাটা ঠিক বিপরীত। দিনের আলো নিভে এলে দেখি, কত আয়োজনই তো অপূর্ণ রয়ে গেল। প্রতি রাতে যখন ঘুমাতে যাই, বুকের ভেতর এক ধরনের ব্যর্থতাবোধ জেগে ওঠে। মনে হয়, আজকের দিনটাও বুঝি হেলায় নষ্ট হলো। কত জরুরি কাজ অসমাপ্ত রইল, যা হয়তো আরেকটু চেষ্টা করলেই করে ফেলা যেত। কত বইয়ের পাতা খোলা হলো না, কত চলচ্চিত্রের দৃশ্য অদেখাই রয়ে গেল। সময়টা যেন কেমন ফুঁৎকারে উড়ে গেল! ভালো লাগে না। সত্যি তো, আয়ুর পুঁজি আর কতটুকুই বা অবশিষ্ট আছে? দিন যত এগোচ্ছে, পরিসর ততই ছোট হয়ে আসছে। দীর্ঘ একটা জীবন তো কাটালাম; কেমনভাবে বাঁচলাম, সে খতিয়ান অন্য কেউ চাইলে লিখতে পারে। সে কথা না হয় অন্য কোনোদিন তোলা রইল। কিন্তু বুকের মধ্যে এই খচখচানি কিছুতেই যায় না—সবকিছু কেন এমন ধীরে ধীরে ফুরিয়ে এল? আরও তো কত কিছু দেখার ছিল, জানার ছিল, স্পর্শ করার ছিল। কত সিনেমা, কত বইয়ের অক্ষরেরা আজও পথের দিকে চেয়ে রইল। আজ আর নয়, এখানেই শেষ করি।
