আমাদের প্রত্যেকেরই অন্তরে আরেকটি আমি বাস করে—নীরব, অদৃশ্য, তবু অচেনা নয়। সংকটের ক্ষণে, যখন পথ দু’দিকে ভেঙে যায় আর মন দ্বিধার অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকে, তখন যেন সেই অন্তর্গত সত্তাই মৃদু স্বরে বলে ওঠে: “না, এই পথ নয়; সোজা পথটাই ধরো—সেখানেই তোমার গন্তব্য লুকিয়ে আছে।” আর আশ্চর্য, বহুবার সেই অদৃশ্য নির্দেশই আমাকে রক্ষা করেছে, আমাকে ঠিক জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে।
কখনো মনে হয়েছে, এই স্বর যেন আমার শৈশবে হারিয়ে যাওয়া পিতার কণ্ঠস্বর—দূর অতীতের কোনো স্মৃতি, যা আজও হৃদয়ের গভীর থেকে ফিরে আসে। কিন্তু আমি নিশ্চিত নই। হয়তো তা পিতার কণ্ঠ নয়, হয়তো তা আমারই অন্তরাত্মার ডাক; মানুষের ভিতরে গোপনে জেগে থাকা সেই বিচক্ষণ আলো, যা অন্ধকারের মধ্যেও পথ চিনে নিতে শেখায়।
তবু প্রশ্ন রয়ে যায়—এই স্বর কি স্মৃতির, না বিবেকের, না আত্মার?
নাকি মানুষের অস্তিত্বের ভেতরে এমন এক গভীর রহস্য লুকিয়ে আছে, যা কখনোই সম্পূর্ণভাবে ভাষায় ধরা যায় না?
