Travels, Life and Death, Uncategorized, wisdom

সরণ  শুন্য 

আমাদের সবার মধ্যে একটা করে অপু আছে। অন্তত আমার মধ্যে তো আছেই। সেই বিখ্যাত দৃশ্যটা ভাবুন, অপু তার দিদি দুর্গার সাথে ক্যাশ ফুলরে মধ্যে দিয়ে ট্রাই দেখতে গেছে। ট্রেন আসছে। অপার বিস্ময় অপু দুর্গার চোখে। ট্রেন তাদের পেরিয়েই চলে যায়. ওদের বিস্ময়ের শেষ থাকে না।  

ট্রেন দেখতে আমার এখনই ভালো লাগে। কোনো স্টেশনের ফ্লাই ওভারের ওপর থেকে ট্রেন দেখতে কার না ভালো লাগে।  ট্রেনগুলো কেমন সরীসৃপের মতন এঁকে বেঁকে আসে আর চলে যায়।  তবে অস্কারকার ট্রেনগুলোর থেকে ভালো লাগতো আরো বেশি করে আগেকার কয়লার ইঞ্জিনে টানা ট্রেনগুলো। ওগুলো দেখতে দারুন লাগতো। কেউ ঝিক ঝিক আওয়াজটা শুনলেই কেমন বুকের মধ্যে দামামা বাজতো। 

ট্রেনটা মূল কথা নয়।  আসল কথা হলো বিস্ময়। আসল কথা হলো ভালোলাগা। আসল কথা হলো নতুন নতুন জায়গা আবিষ্কার করা. 

আমি যে শহরে থাকি সেই শহরটা বিশেষ বড়ো নয়।  কিন্তু তার মধ্যেও কিছু জায়গা আছে যেখানে কোনো দিনতো যাই নি. বাইকে করে কখনো এই সব জায়গায় যাবার দরকার পড়লে অবাক বিস্ময়ে রাস্তার দুপাশের দিকে তাকিয়ে দেখি। মনে হয়েছেন আজকের দিনটা সার্থক হয়ে গেলো। 

করোনা পৃথিবীকে অনেকখানি পাল্টে দিয়েছে। ওই সময় থেকে কলকাতা গেলে নিজে গাড়ি চালিয়ে যাই।  এর আগে কলকাতার কোথাও যাবার হলে ট্রেনে যেতুম। তার পর বাস ধরতুম নির্দিষ্ট রুটের। 

মাঝে মাঝে অন্য রুটের বাসে  উঠে বসতাম।  কত রকম অদ্ভুত জায়গার নাম লেখা থাকতো বাসে। বাস শেষ যে গন্তব্যে যাবে সেখানে একখানা টিকিট কাটতাম।  নেবে যেতুম মাঝখানে কোথাও। কখনো আবার ইচ্ছে হলে বস্তার সাথে গিয়ে নাবতাম শেষ স্টপেজে।  বহুবার এই সব করেছি। কিছুক্ষন  ইতি উতি  ঘুরে একটা চায়ের দোকানে বসে পড়েছি। কে যেন বলেছিলো চায়ের দোকান গুলো এক একটা মিনি ইন্ডিয়া।  কত কিছু জানা যায় অজানা অচেনা মানুষগুলোর কথা চুপ করে মন দিয়ে শুনলেই। কোন মন্দিরে চুরি হয়েছে, কেই বা সেই চুরি করে থাকতে পারে।  মোদী আর দিদির সেটিংএর আরো অকাট্য প্রমাণ ওই চায়ের দোকানগুলো থেকে পাওয়া যায়. এই সব করে বেশ সময় কেটে যায়. কখনো একটু খিদে পেলে চায়ের দোকানিকে বলি একটা ডিম্ ভেজে দিতে। যে বসে অচেনা জায়গাটায় এসে ছিলাম, সেটা হটাৎ হর্ন দিয়ে ওতে।  আমিও দূরত্ব চা শেষ করে বসে উঠে বসি।  কন্ডাক্টার অবাক হয় একটু। খুব কম লোকই তো বাসের শেষ স্টপেজে নেবে ছিল. তাই আবার যখন একই বসে ফিরতি পথে উঠে বসি তখন কন্ডাক্টারের চিনতে আমায় অসুবিধা হয় না।  সে দেখে কিন্তু কিছু বলে না।  বাস চলতে শুরু করে হাওড়া স্টেশনের দিকে।  এক সময় সরণ  সুনয় হয়ে যায়।  আমি তখন কলম্বাস। শুধু বিজয়ীর  পতাকাটি বা বিজিতের মাটিতে পুঁতে আসিনি। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *