এক যে ছিল স্বপ্ন!
Uncategorized, Life and Death

এক যে ছিল স্বপ্ন!

মনবিজ্ঞানের নিয়মে বলে যে, আমরা নাকি প্রতি রাতে ৩/৪ টি স্বপ্ন দেখি। বিশ্বাস হয় না এ সব। এই ৫৬ বছরের জিব্লে ৪ টে স্বপ্ন বড় জোর মনে রাখতে পেরেছি কি না সন্দেহ। সে যাই হোক কাল রাতে একটা অদ্ভুত স্বপ্ন দেখলাম মশাই। সকালে সেই স্বপ্নটা মনেও করতে পারলুম বেশ। আজ কাজ করছি, খাচ্ছি, রিল দেখছি, আর সেই স্বপ্নটার কথা মনে ভেসে আসছে। কেমন যেন অস্বস্তি হচ্ছে। কাউকে বলতেও পারছি না। অবশেষে ঠিক করলাম লিখে ফেলি স্বপ্নের কথাটা।

ক্লাস 10এ যখন পড়তাম তখন Work Education বলে একটা বিষয় আমাদের পড়তে হত। অন্য সব স্কুলে এই Work Education বিষয়টাকে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হতো না। কিন্তু আমাদের স্কুলে আবার এই বিষয়টাকে বেশ গুরুত্ব দিত। তার কারণ এই বিষয়ের মাস্টারমশাই। যার নাম জ্যোতি বাবু।

জ্যোতি বাবু নিজের বিষয়টি একটু অতিরিক্তই ভালবাসতেন। সেই ভালবাসার নমুনা কিছু না দিলেই নয়। ক্লাস 10 এ Work Education এ আমাদের কাপড় কাচার সাবান আর ফিনাইল তৈরি করতে হত। কাপড় কাচার সাবান যেটা তৈরি করতাম সেটি অতি চমকপ্রদ। সেটি দিয়ে একটা স্যানডো গেঞ্জি কাচলে সেটি মনে হত সদ্য দোকান থেকে কেনা হয়েছে। সেটা পুরো ধবধবে সাদা হয়ে যেতো । কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হলো সাবানটা আর খুঁজে পাওয়া যেতো না। সে বড় বিচিত্র সাবান। তবে ফিনাইলের গুনমান সাত্যি ভালো হত। বাড়িতে সেটি ব্যাবহার করলে বাড়িতে পোকা মাকড়ের উপদ্রব আনেকাংশেই কম হতো। এই সাবান ও ফিনাইল তৈরী করার কর্ম পদ্ধতি , মায় তার রাসায়নিক ফর্মুলা সহ নানান দৃষ্টি নান্দনিক ছবি সহ দুইখানি প্রজেক্ট লিখতে হতো। স্বাভাবিক ভাবেই এই কাজটি আমাদের তেমন পছন্দ হত না। আর যে কাজ গুলি পছন্দ না হয় সে গুলিই মনে হয় খুব গুরুত্বপুর্ণ। এই আপাত সহজ কাজটিকে আরো দুরুহ করে তোলার উদ্দেশেই বোধহয় ওই সাবান ও ফিনাইল তৈরির উপাদান গুলির প্রস্তুত প্রণালীও প্রজেক্টে লেখা হতো। যেমন সাবান তৈরীর উপাদান স্কস্টিক সোডা কি করে তৈরী হয় তার প্রাঞ্জল বর্ণ্না করতে হতো। সুতরাং এই কাজ গুলিকে সহজ করার জন্যে আমরা অনেকেই Work Education এ টিউসান নিতাম । কার কাছে? সেই জ্যোতি বাবুর কাছেই। আশা করি মন্তব্য নিস্প্রয়জন ।

শুরু হয়েছিল স্বপ্ন দিয়ে। আবার স্বপ্নেই ফিরে আসি। কাল হঠাত স্বপ্ন দেখলাম আমি জ্যোতি বাবুর work education টিউসান ক্লাসে। আমি আগের দিন সিসের মতন একটা জিনিস দিয়ে নৌকা তিরি করা শেখানো হয়েছে। জিনিষটা ঠিক সীসা নয়। কেমন কাদার মতোন শক্ত করে মাখা ময়দার মতন। রঙটা কালচে ছাই রঙের। কালির মধ্যে যেমন মাইকা চকচক করে তেমন চকচক করছে। সুগুল মাইকাই হবে বোধহয়। ঠিক জানি না। এই জিনিসটা দিয়ে এমন একটা নৌকা বানাতে হবে যেটা আবার জলে ভাসবে। যতই যা করি নৌকা আর ভাসে না জলে। জলে দিলে টুপ করে ডুবে যায়। এ দিকে বন্ধুদের বেশীরভাগেরই নৌকা দিব্যি জলে ভাসছে। কেঊ ব্যাপারটা শেখানোরও বিশেষ আগ্রহ দেখাচ্ছে না। কান্না পাচ্ছে আমার। আবার এত গুল ছেলের সামনে কাঁদতেও পারছি না। ঘার থেকে বেড়িয়ে যেতে ইচ্ছে করছে। স্যার বোধহয় আমার অবস্থা দেখেই মিটি মিটি হাসছে। নাঃ বেড়িয়েই যাই সবার অলক্ষ্যে।

এমন সময় ঘুমটা গেল ভেঙ্গে। বারবারই দেখি আমার স্বপ্নগুল কেমন যেন হতাশায় শেষ হয়।






ধাবে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *